স্বাস্থ্যএবংসুরক্ষা

নিয়োগকর্তারলক্ষনীয়বিষয়

কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সেবা এবং নিরাপত্তা সুবিধা প্রতিটি শ্রমিকের বৈধ এবং আইনগত অধিকার। শ্রমিকদেরকের একটি নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যকর কর্ম পরিবেশ প্রদান করতে হবে এবং কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পেশাগত স্বাস্থ্য এবং নিরাপদ পরিবেশের অনুশীলন উন্নত করতে হবে।  শ্রম আইন ২০০৬ এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত পেশাগত স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো হলঃ পরিচ্ছনতা, বায়ু চলাচল এবং তাপমাত্রা ব্যবস্থা, কৃত্তিম আর্দ্রকরণ, জনবহুলতা, আলোর ব্যবস্থা, অগ্নি সংক্রান্ত ঘটনা, অতিরিক্ত ওজন, বিল্ডিং এবং যন্ত্রপাতির সুরক্ষা, যন্ত্রপাতিকে ঘেরাও করা, চলমান যন্ত্রপাতির উপর বা কাছাকাছি কাজ করা, বিস্ফোরক বা দাহ্য গ্যাস ও ধুলা, বিপজ্জনক ধোয়ার বিরুদ্ধে সতর্কতা, ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

(শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৫১-৯৯, সংশোধিত ২০১৩)                                     

বিনামূল্যেসুরক্ষা

শ্রম আইনের বিভিন্ন ধারা আছে যা কর্মক্ষেত্রে নিযুক্ত কর্মীদের জন্য ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিধান উল্ল্যেখ করে। শ্রমিকের চোখের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত চশমা বা চোখের আবরনের ব্যবস্থা থাকতে হবে যেখানে উৎপাদন প্রক্রিয়ার কারণে উৎক্ষিপ্ত বা বিচ্ছুরিত কণা বা টুকরা থেকে অথবা অতিমাত্রায় আলো বা উত্তাপের কারণে চোখের ক্ষতির আশংকা থাকে। যেখানে শারীরিক আঘাত, বিষক্রিয়া বা গুরুত্বর রোগের সম্ভাবনা আছে এমন কোন ক্ষতিকর অপারেশনের ক্ষেত্রে, কর্মরত প্রতিটি শ্রমিকের জন্য সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা অথবা কাজটি যেখানে হচ্ছে তার কাছাকাছি জায়গায়, এবং অপারেশনে ব্যবহারিত সরঞ্জামের ব্যবহার অথবা অপারেশনের সাথে সম্পর্কিত প্রক্রিয়া এবং নোটিশের মাধ্যমে কোন ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহারিতা ও সতর্কতা সম্পর্কে জানানো এইসব বিষয় নিয়োগকর্তার দায়িত্বের মধ্যে পরে। ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য সরঞ্জাম দেওয়া সত্ত্বেও, এটি ব্যবহার না করা হলে তার দায়িত্ব শ্রমিকের নিজের হবে।  

প্রশিক্ষন

একজন নিয়োগকর্তা তার অধীনস্ত কর্মীদেরকে স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার উপর একটি বাস্তব এবং প্রাসঙ্গিক প্রশিক্ষন প্রদান করতে এবং কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য একটি সুরক্ষিত এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে  বাধ্য থাকে। একজন নিয়োগকর্তাকে কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষন প্রদানের মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। শারীরিক আঘাত, বিষক্রিয়া বা গুরুত্বর রোগের ঝুঁকি আছে এই ধরণের বিপদজনক অপারেশনের

ক্ষেত্রে, এটি নিয়োগকর্তার দায়িত্বের অধীনে পরে যে সেই অপারেশনে নিযুক্ত শ্রমিকের পর্যায়ক্রমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করা এবং কাজের জন্য উপযুক্ত হিসেবে প্রমানিত না হলে তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা। এই ধরণের অপারেশন এবং বিপজ্জনক মেশিনের কাজের সাথে নিযুক্ত কর্মীদেরকে অবশ্যই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন প্রদান করতে হবে এবং তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।

(শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৪০(১খ),৭৮(ক৩),৭৯(গ), সংশোধিত ২০১৩)                                                                   

শ্রমপরিদর্শনব্যবস্থা

শ্রম আইনের অধিনে,  পেশাগত স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ করতে পরিদর্শকের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। শ্রম পরিদর্শকদের যেকোনো প্রতিষ্ঠানে সঠিক ভাবে আইন মূল্যায়ন হচ্ছে কি না তা জানার, নিবন্ধন বই ও অন্যান্য নথিপত্র দেখার এবং পূর্ববর্তী ২ মাসের মধ্যে নিযুক্ত কর্মীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার অধিকার রয়েছে। শ্রম পরিদর্শকের কোন নিয়োগকর্তাকে ভাঙ্গনের কারনে পেশাগত ঝুঁকি প্রতিরোধ করার সমাধান করার এবং সেই ভাঙন যদি গুরুত্বর ভাবে শ্রমিকের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার উপর আসন্ন বিপদ সৃষ্টি করতে থাকে তবে সেই ক্ষেত্রে অবিলম্বে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আছে। একজন পরিদর্শক যেকোনো প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্ম সময়ে, মালিকপক্ষকে খবর দিয়ে, প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিত বা ব্যবহারের জন্য আনা কোন বস্তুর,যা নিয়মবিধির লঙ্ঘন বা যা শ্রমিকের শারীরিক বা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে এমন মনে হয়, তার নমুনা সংগ্রহ করতে পারবে। যদি কোন পরিদর্শকের মনে হয় যে প্রতিষ্ঠানের কোন অংশে বা তার যন্ত্রপাতি ব্যবহারে তার শ্রমিকের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক তাহলে, সেই প্রতিষ্ঠানের মালিককে লিখিত আদেশ জারির মাধ্যমে জানাবে এবং যতক্ষণ না যথাযথ মেরামত না হচ্ছে ততক্ষণ অই প্রতিষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে  কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ(ডিআইএফই)স্থাপিত হয়েছে এবং বর্তমানে দেশের ২৩টি জেলায় স্বাস্থ্য,নিরাপত্তা এবং শ্রমকল্যানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ডিআইএফই কেবল একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, বরং এটি আইনি বিধান মেনে চলার জন্য নিয়োগকর্তা এবং শ্রমিকদেরকে সাহায্য করে।

(শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৬১(২),৮৪(১), ৮৫(৩),৩১৮ ও ৩১৯, সংশোধিত ২০১৩)                                                                               

স্বাস্থ্যএবংসুরক্ষারবিধানঃ

  • বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬, সংশোধিত ২০১৩ / Bangladesh Labour Act 2006, amended in 2013