ন্যায্যকাজেরব্যবস্থা

সমানমজুরি

সংবিধান অনুযায়ী, একটি দেশে সরকারকে সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের ব্যবস্থা করতে হবে। মানুষ এবং নাগরিকের মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীভূত করার জন্য এবং সম্পদের সুষম বণ্টনের জন্য এবং রাষ্ট্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের অভিন্ন ধারা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সকলকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। (গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানের ধারা ১০,১৯,২০ অনুযায়ী)।

যেকোনো শ্রমিকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সময় অবশ্যই একই ধরনের কাজের প্রেক্ষিতে মহিলা, পুরুষ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের জন্য একটি আদর্শ মজুরি দিতে হবে এবং এই ব্যবস্থায় লিঙ্গের ভিত্তিতে কোন প্রকার বৈষম্য করা যাবে না। (শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৩৪৫, সংশোধিত ২০১৩)  

বৈষম্যহীনতা

সংবিধান অনুযায়ী,  প্রত্যেকটি নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের অধীনে সমান আশ্রয় লাভের অধিকারি। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, লিঙ্গ বা জন্মস্থানের উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র কোন নাগরিকের সাথে বৈষম্য করতে পারবে না। এইজন্য এইধরনের কোন কিছুর ভিত্তিতে দেশে বৈষম্য করা নিষিদ্ধ। একটি রাষ্ট্রে পুরুষদের মতই নারীদেরও রাষ্ট্র এবং সর্বজনীন ক্ষেত্রে সমান অধিকার রয়েছে। কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ নারীপুরুষ ভেদে বা জন্মস্থানের কারনে জনসাধারণের কোন বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশের কিংবা কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোন নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা, বাধা বা শর্তের অধীনে করা যাবে না। প্রজাতন্ত্রে কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারনে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হবে না অথবা তার প্রতি কোন বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।

বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যান আইন ২০০১ অনুযায়ী সরকারি বিভাগে, সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অক্ষম কিন্তু যোগ্যতাসম্পন্ন উপযুক্ত ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সমান সুযোগের প্রচারনা করা হয়ে থাকে।

উপরন্ত, কর্মসংস্থানে কোন শ্রমিকের সাথে ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যপদ অথবা সদস্যপদ না থাকার ভিত্তিতে কোন প্রকার বৈষম্য করার নিষেধাজ্ঞা আছে।

(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সংবিধানের ১৯, ২৭-২৯ অনুচ্ছেদ, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১৯৫, সংশোধিত ২০১৩)                                                           

কাজনির্বাচনকরারক্ষেত্রেস্বাধীনতা

বাংলাদেশের সংবিধান জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহনকে উৎসাহিত করে থাকে। আইনপ্রদত্ত কিছু ক্ষেত্রে বাধা ছাড়া, সকল নাগরিকের যেকোনো আইনি পেশায় বা কাজে প্রবেশ এবং যেকোনো বৈধ ব্যবসা বা বানিজ্য পরিচালনা করার অধিকার আছে।

কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া নারীদের একই প্রতিষ্ঠানে পুরুষদের সাথে কাজ করার অধিকার আছে। শ্রম আইনের ধারা ৬৪ অনুসারে, চলমান যন্ত্রপাতি বা তার কোন অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সমন্বয় এবং তৈলাক্তকরন কাজে সঠিকভাবে প্রশিক্ষন প্রাপ্ত পুরুষ শ্রমিকের নিয়োগ প্রয়োজন। কোন নারী বা কিশোর শ্রমিককে এই ধরনের কাজ করতে এবং স্থির বা চলমান যন্ত্র বা যন্ত্রের কোন অংশে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয় না। নিযুক্ত ব্যক্তির শারীরিক আঘাত, বিষক্রিয়া বা কোন গুরুত্বর রোগের ঝুঁকি থাকে এইরকম কোন কাজে নারী, কিশোর এবং শিশু শ্রমিকের কাজ করার ক্ষেত্রে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। নারী শ্রমিকদের পানির নিচে বা কোন বিপজ্জনক কাজেও নিয়োগ করা যাবে না।

(গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলদেশ সংবিধানের ১৯ ও ৪০ অনুচ্ছেদ, শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ৬৪,৭৯ ও ৮৭, সংশোধিত ২০১৩) 

কর্মক্ষেত্রেন্যায্যব্যবস্থারনিয়মাবলিঃ

  • বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬, সংশোধিত ২০১৩ / Bangladesh Labour Act 2006, amended in 2013
  • গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধান ৪ঠা নভেম্বর ১৯৭২,সংশোধিত ২০১১ / Constitution of the People's Republic of Bangladesh 4th November 1972, last amended in 2011