নোটিশ এবং বিভাজন

নোটিশএরপ্রয়োজনীয়তা

কোন শ্রমিকের বিনা নোটিশে চাকরি থেকে ছাঁটাই, বরখাস্ত(গুরুত্বর অসদাচরনের জন্য) অথবা পরিসমাপ্তি হলে, তাকে অবশ্যই একটি লিখিত বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। চাকরি থেকে ছাঁটাই হওয়ার ক্ষেত্রে, নিয়োগকর্তা তার শ্রমিককে ১ মাসের নোটিশ প্রদান করবে। বিনাকারণে চাকরির অবসানের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে অবশ্যই নিম্নলিখিত নোটিশকাল পালন করতে হবেঃ 

১)স্থায়ী কর্মীদের ক্ষেত্রেঃ ১২০ দিনের নোটিশ যদি শ্রমিককে মাস হিসেবে মজুরী দেওয়া হয় এবং ৬০ দিনের নোটিশ অন্যান্য কর্মীদের জন্য।

২) অস্থায়ী কর্মীদের জন্য(যখন শ্রমিকের চাকরির অবসান সেই কাজের সমাপ্তি,অবসান,উচ্ছেদ বা বিরতির কারণে না হয়ে অন্য কারনে হয় তখন): ৩০ দিনের নোটিশ যদি শ্রমিককে মাস হিসেবে মজুরী দেওয়া হয়, এবং ১৪ দিনের নোটিশ অন্যান্য অস্থায়ী কর্মীদের জন্য।  

পরিচালনা ব্যবস্থা এবং দক্ষতা সংক্রান্ত কর্মচ্যুতির জন্য কোন সংবিধিবদ্ধ নোটিশের প্রয়োজন হয় না। নিয়োগকর্তা যদি চায় তবে, ছাঁটাই, পরিচালনার কারণে অপসারণ এবং দক্ষতা সংক্রান্ত কারণে চাকরীচ্যুত করার নোটিশ দেওয়ার পরিবর্তে পারিশ্রমিক প্রদান করতে পারে। অসদাচরন এবং অপরাধমূলক কারণে চাকরিচ্যুত করার ক্ষেত্রে কোন নোটিশকালের প্রয়োজন হয় না। শ্রমিককে তার দোষ বা অপরাধ সম্পর্কে লিখিত ভাবে অবগত করতে হবে, ৭দিনের মধ্যে সেই অভিযোগের প্রতিরোধে বক্তব্য প্রদান এবং সেই বক্তব্য শুনে বিচার করার অধিকার রাখে। সকল পদচ্যুত কর্মীর তার নিয়োগকর্তার কাছে থেকে নোটিশ পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ হতে প্রতিকার পাওয়ার অধিকার রাখে। যদি এই সমস্যার সমাধান না হয়ে থাকে, তবে তা শ্রম আদালতে হস্তান্তর করা হয়।

(শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ২০(১), ২৪ এবং ২৬, সংশোধিত ২০১৩) 

বিচ্ছেদ মজুরী

শ্রম আইনের অধীনে, বিচ্ছেদ পারিশ্রমিক একটি কর্মীকে তখন প্রদান করা হয়, যখন একটি কর্মী ক্রমাগত ১ বছরের জন্য কাজ করার পর শারীরিক, মানসিক অক্ষমতা বা দীর্ঘ সময় অসুস্থতার কারণে চাকরি থেকে অব্যহতি দেওয়া হবে (ডিসচার্জ হিসেবে পরিচিত)। উল্লেখিত শ্রমিককে অবিরাম ১ বছর কাজ করার জন্য ৩০ দিন হারে প্রত্যেক বছরের, মজুরী বা গ্রাচুইটি, যেইটা বেশি হয়, প্রদান করতে হবে। কোন শ্রমিক যদি চাকরি ছাড়ার জন্য নিজে থেকে নোটিশ প্রদান করে থাকে এবং যদি সে পাঁচ বা তার অধিক কিন্তু দশ বছরের কম সময় ধরে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে থাকে তাহলে প্রতি বছর কাজের জন্য ১৪ দিন হারে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকবে; (খ)যদি সে ১০ বা তার অধিক বছর সময় ধরে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে থাকে তাহলে সে প্রতি বছর কাজের জন্য ৩০ দিন হারে, পারিশ্রমিক বা গ্রাচুইটি, যদি থেকে থাকে তবে যেইটা বেশি হয়ে থাকবে, সেই পরিমাণটি তাকে প্রদান করতে হবে। অসদাচরণের জন্য যদি কোন শ্রমিককে চাকরিচ্যুত (যাকে বরখাস্ত হিসেবে ধরা হয়) করা হয়ে থাকে তবে সেই ক্ষেত্রে শ্রমিক কোন ধরনের বিচ্ছেদ মজুরী পাবে না। কোন শ্রমিক যদি নিয়োগকর্তার সাথে কমপক্ষে টানা ১ বছর অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে থাকে, তবে ছাঁটাই করার ক্ষেত্রে, শ্রমিককে প্রত্যেক বছর সেবার জন্য কমপক্ষে ৩০ দিনের মজুরী প্রদান করতে হবে। যদি কোন নিয়োগকর্তা সিদ্ধান্ত নেই যে কোন কর্মীকে ৪৫দিন লে-অফ সময়ের পরে, ছাঁটাই পদ্ধতিতে চাকরিচ্যুত করা হয়, তবে সেই কর্মীকে অতিরিক্ত মজুরী ছাড়াও আরও ১৫ দিনের মজুরী পাওয়ার অধিকার রাখে।

(শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা ১৬(৭), ২০(৩), ২২(২) এবং ২৭ (৪), সংশোধিত ২০১৩)